চুইঝাল কি। চুইঝালের দাম-চুইঝাল রেসিপি। চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায়

চুইঝাল কি। চুইঝালের দাম-চুইঝাল রেসিপি। চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায়

চুইঝাল কি

চুইঝাল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা বাগেরহাট, খুলনা, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা এলাকায় জনপ্রিয় একটি ঝাল হলো চুইঝাল। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। 

চুইঝাল খাওয়ার উপকারিতা

চুই লতা জাতীয় গাছ। এর কাণ্ড ধূসর এবং পাতা পান পাতার মতো, দেখতে সবুজ রংয়ের। চুইঝাল খেতে ঝাল হলেও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুণ।

চুইলতার শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল- ফল সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। এছাড়াও মসলা হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। তবে ঝাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় হাঁসের মাংস ও গরুর মাংস রান্না করতে।

মূলত,রান্নার জন্যে চুইঝালের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। চুইঝালে দশমিক ৭ শতাংশ সুগন্ধি তেল থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে আইসোফ্লাভোন, অ্যালকালয়েড, পিপালারিটিন, পোপিরন, পোলার্টিন, গ্লাইকোসাইডস,মিউসিলেজ, গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সিজামিন, পিপলাস্টেরল থাকে।

চুই এর শিকড়ে রয়েছে ১৩.১৫ শতাংশ পিপারিন।

রুচি বাড়াতে: রুচি বাড়াতে খাবারের রুচি বাড়াতে ও ক্ষুধামন্দা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে: এতে প্রচুর পরিমাণে আইসোফ্লাভোন ও অ্যালকালয়েড নামক ফাইটোক্যামিকাল রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধে: দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

পাকস্থলীর সমস্যা দূরীকরণে: পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। তাছাড়া গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মানসিক প্রশান্তিতে: স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমন করে।

ব্যথা দূর করতে: আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করে শরীর সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ঘুমের ওষুধ হিসেবে: এটি ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।

প্রসূতি ব্যথা: প্রসূতি মায়ের প্রসব-পরবর্তী ব্যথা প্রশমনে ভালো কাজ করে চুইঝাল। সদ্যপ্রসূতি মায়েদের শরীরের ব্যথা কমাতে চুইঝাল ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ: অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে চুইঝাল বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে।

চুইঝাল এর দাম

চুই ঝালের গাছ দেখতে অনেকটা পান গাছের মত। এর পাতাও খানিকটা পান পাতার মত। খুলনার গ্রামাঞ্চলের বিয়েতে বর পক্ষকে বোকা বানাতে কনে পক্ষ কখনো কখনো পানের পরিবর্তে চুই গাছের পাতা দিয়ে পান সেজে দেয়। বিক্রেতাদের তথ্য মতে, যশোর অঞ্চলে এর চাষ হয় বেশী। এই চুই গাছ লাগানো হয় ক্ষেতে কিংবা কখনো উকখনো কোন বড় গাছের গোড়ায় চারা লাগিয়ে একে গাছেও তুলে দেওয়া হয়। মসলা হিসাবে এর শাখা, শেকড় উভয়ই ব্যবহার করা হয় তবে পাতার ব্যবহার নেই। শাখার চেয়ে শিকড়ের ঝাল বেশী। 

এজন্য শিকড়ের চুইয়ের দাম ও বেশী। আগে বাজারে চুইয়ের দাম কম থাকলেও এখন এর দাম বেশ চড়া। প্রতি

কেজি শাখা চুই ২০০-৩০০ টাকা, শেকড় বা গোড়ার দিকের প্রতি কেজি চুইয়ের দাম ৩০০ ৪০০টাকা পর্যন্ত।

চুইঝাল কিনতে যোগাযোগ করুন: ০১৩১৯৯৬৪১৭০ (সারাদেশে ডেলিভারি)

চুই ঝাল খাওয়ার নিয়ম

চুইঝাল মসলা জাতীয় ফসল। এর কাণ্ডশিকড়শাখা-প্রশাখা সবই মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাণ্ড বা লতা কেটে টুকরো টুকরো করে মাছ বা মাংস রান্নায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। রান্নার পর গলে যাওয়া সেসব টুকরো চুষে বা চিবিয়ে খাওয়া হয়। খুব ঝাল হলেও এর একটা অপূর্ব স্বাদ ও ঘ্রাণ আছে। 

চুই ঝাল চারা কোথায় পাওয়া যায়

বর্তমানে খুলনার পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও রূপসা উপজেলায় চুইঝালের চারা উৎপাদন হয়। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, অন্তত দুইতিন দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তবেই চুইঝাল উৎপাদনে নামা উচিত। তিন মাসের মধ্যেই চুই চারা বিক্রি শুরু করা যায়। একেকটি চারা তৈরিতে খরচ হয় ৩ থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। আর বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায়। হাজার পঞ্চাশেক টাকা খরচ করলে দেড় লাখ টাকার মতো চারা বিক্রি হতে পারে। জমিতে অন্য ফসলের সাথি ফসলহিসেবেও চুইয়ের চাষ করা যায়। এক বিঘা জমিতে লাগানো যায় ৬২০টি চারা। প্রথম বছর একটি চুইগাছ থেকে ৩ কেজির মতো চুইঝাল পাওয়া যায়। তবে দ্বিতীয় বছর ৬ থেকে ৮ কেজি সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি চুইঝাল ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

চুইঝাল রেসিপি

চুইঝাল রেসিপি

প্রথমে মাংস, জিরা, এলাচ, মরিচের গুড়া, দারুচিনি, হলুদ, আদা এবং গরম মসলাএকটি প্যানে মাংস নিয়ে নিবেন। আপনি চাইলে খাসি বা গরু যে কোন মাংস নিতে পারেন। মাংসের টুকরো গুলো একটু বড় বড় করে কাটতে হবে। এবার একে একে সব মসলা দিয়ে দিতে হবে। পিয়াজ ১ কাপ পরিমান , ২ - ৩ টুকরা দারুচিনি , তেজপাতা ৩ টি , ৬ টি ছোট সাদা এলাচ , লং ৪ টি , গোল মরিচ ১০ ১২ টি , শুকনো মরিচের গুড়ো ১ টেবিল চামচ , হলুদ ১ চা চামচ , ধনে গুড়ো ১ তেবিল চামচ , লবন ১ টেবিল চামচ , রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ , আদা বাটা ১ টেবিল চামচ , যে কোন রান্নার তেল ১ কাপ পরিমান দিয়ে দিবেন। সব গুলো মসলার সাথে মাংস খুব ভালো ভাবে উলটে পালটে মাখাতে হবে। এই মাখানোর উপরেই আসলে মাংসের আসল স্বাদ নির্ভর করে। মাংসটা যত ভালো করে মাখানো হবে স্বাদ তত বেড়ে যাবে। মাখানো হলে পানি দিয়ে দিতে হবে। এমন ভাবে পানি দিতে হবে যেন পানিটা মাংসের গায়ে গায়ে থাকে , বেশি কম না হয়। এবার মাংসটা রান্না করতে হবে।

আরো পড়ুন:

পদ্মা সেতুর টোল তালিকা ২০২২ 

এবার বড় বড় ২৫০ গ্রাম রসুন নিতে হবে। রসুনের উপরের খোসা গুলো ফেলে দিবেন। কিন্তু গোড়া সব কেটে ফেলবেন না। রসুনের উপর ছোলার একটা লেয়ার রাখতে হবে। এরপর রসুনের উপর চাকু দিয়ে চিরে দিতে হবে। এটি খেতেও কিন্তু অসাধারন লাগবে।

মাংসের তেল উপরে উঠে আসলে রসুন আর চুই ঝাল দিয়ে দিতে হবে। এবার আবার উপর নিচে ভালো ভাবে নাড়া চাড়া করতে হবে। মাংসটা কিন্তু অনবরত নাড়তে হবে। এই পর্যায় অনবরত না নাড়লে মাংসটা লেগে যেতে পারে। এবার ঢাকা দিয়ে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। চুলোর আচঁ কিন্তু ফুল রাখতে হবে পুরো রান্নায়। ৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলে মেথি গুড়ো দিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কাচাঁ মেথি গুড়ো করে দিলেই হবে , ভেজে দিতে হবে না। আবার মাংস গুলো কষাতে হবে। মাংস গুলো ততক্ষন কষাতে হবে যতক্ষন না রসুন গুলো সিদ্ধ হবে। এর পর ১ চা চামচ ভাজা জিরার গুড়ো , ১ চা চামচ রাধুনি গুড়ো , ১ চা চামচ গরম মসলা দিয়ে দিতে হবে। আবার নাড়া চাড়া দিয়ে কষিয়ে রান্না করতে হবে। এ ভাবেই আপনি মজাদার চুই ঝাল রান্না করতে পারবেন।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url