চাকমা উপজাতির দেশ ভাষা-ইতিহাস ও সংস্কৃতি

আসসালামু আলাইকুম প্রিয় ভিজিটর। প্রথমেই আপাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন। আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করবো চাকমা উপজাতির দেশ ভাষা-ইতিহাস ও সংস্কৃতি নিয়ে। চলুন দেরি না করে আজকের আলোচনা শুরু করি। আজকের পুরো ইনফোতে আপনাদের সাথে আছি আমি মেহেদী হাসান।

চাকমা দেশ

বাংলাদেশের বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী। তারা নিজেদেরকে চাঙমা (𑄌𑄋𑄴𑄟𑄳𑄦) বলে। পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই প্রধানত চাকমা উপজাতি বসবাস করে। চাকমাদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হিসেব অনুযায়ী তাদের সংখ্যা ১৯৫৬-তে ১,৪০,০০০ ও ১৯৮১-তে ২,৩০,০০০ ছিল বলে জানা যায়। ১৯৯১-এর  আদমশুমারি অনুযায়ী, চাকমা জনসংখ্যা প্রায় ২,৫৩,০০০। চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত। অনুমান করা হয় ভারতের অরুণাচল, মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে। ছোট ছোট দলে বেশকিছু চাকমা অন্যান্য দেশেও বসতি স্থাপন করেছে।

আনুমানিক ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে পর্তুগিজ মানচিত্র প্রণেতা লাভানহা অঙ্কিত বাংলার সর্বাপেক্ষা পুরাতন মানচিত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামের এসব চাকমাদের সম্পর্কে উল্লেখ পাওয়া যায়। কর্ণফুলি নদীর তীর বরাবর চাকমাদের বসতি ছিল। চাকমাদের আরও আগের ইতিহাস সম্পর্কে দুটি তাত্ত্বিক অভিমত প্রচলিত। উভয় অভিমতে মনে করা হয়, চাকমারা বাইরে থেকে এসে তাদের বর্তমান আবাসভূমিতে বসতি স্থাপন করে। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তাত্ত্বিক অভিমত অনুযায়ী,চাকমারা মঙ্গোলীয় জাতির একটি শাখা। বর্তমান মিয়ানমারের আরাকানে বসবাসকারী ডাইংনেট জাতিগোষ্ঠীকে চাঙমাদের/চাকমাদের একটি শাখা হিসেবে গণ্য করা হয়। এবং এরা প্রধানত থেরাবাদ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। বুদ্ধপুর্ণিমা ছাড়া তাদের অন্যতম প্রধান আনন্দ উৎসব হচ্ছে বিঝু। এ ছাড়াও তারা চট্টগ্রাম ও আরাকানের পাহাড়ি অঞ্চলে এককালে বসবাসকারী সাক (চাক, ঠেক) নামে এক জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্কিত ছিল। অপর তাত্ত্বিক অভিমতটির সমর্থনে কোনো ঐতিহাসিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায় না। এ অভিমতে বলা হয়, চাকমারা উত্তর ভারতের চম্পকনগর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অভিবাসী হিসেবে আসে। আঠারো শতকের শেষের দিকে কেবল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলই নয় বরং আজকের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি এলাকাগুলিতেও তাদের বিক্ষিপ্ত অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশের কোন অংশে চাকমা জনগোষ্ঠী বাস করেন

পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেই প্রধানত চাকমা উপজাতি বসবাস করে। চাকমাদের শতকরা ৯০ জনেরও বেশি রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় কেন্দ্রীভূত। অনুমান করা হয় ভারতের অরুণাচলমিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে চাকমাদের কিছু বসতি রয়েছে। ছোট ছোট দলে বেশকিছু চাকমা অন্যান্য দেশেও বসতি স্থাপন করেছে।

চাকমা খাবার

বাঁশের অঙ্কুর হল চাকমাদের ঐতিহ্যগত খাদ্য। তারা এটাকে বাচ্ছুরিনামে ডাকে এবং শ্রিম্প পেস্ট তাদের রান্নার ঐতিহ্যবাহী উপাদান। তারা এটাকে সিদোলবলে ডাকে। চাকমাদের প্রধান খাদ্য ভাত, ভুট্টা দ্বারা তৈরী খাদ্য, শাক-সবজি ও সরিষা। সবজির মধ্য রয়েছে রাঙা আলু, কুমড়া, তরমুজ, মাম্মারা (শশা)। চাকমারা শুকরের মাংস খেতে পছন্দ করেন। চাকমারা সিদ্ধ ঝাল তরকারি বেশি পছন্দ করে। এ গোষ্ঠির প্রধান খাদ্য ভাত। শাক বা সবজি সিদ্ধ মরিচ ভর্তা দিয়ে মিশিয়ে খাওয়া হয়। চাকমাদের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম সিদল। এটি শুটকি জাতীয় খাবার, যা অনেক মাছের শুটকি একসঙ্গে মিশিয়ে বানানো হয়। তারা তাদের বেশিরভাগ তরকারি সিদল দিয়ে রান্না করে। 

সিদল দিয়ে বানানো আরেকটি বহুল প্রচলিত খাবার হচ্ছে হোরবো। সিদল দিয়ে মরিচ ভর্তা করে তার সঙ্গে বিভিন্ন টক জাতীয় ফল যেমন-আম, চালতা, আমড়া ইত্যাদি মিশিয়ে এই হোরবো বানানো হয়। চাকমারা অনেক আগে বাঁশের ভেতরে মাছ মাংস রান্না করতো, যা সুমো তোননামে পরিচিত। তবে বর্তমানে এটির প্রচলন কমে এসেছে। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকার শুটকি মাছ দিয়ে রান্না করা একটি খাবার হচ্ছে হেবাং’, যেটাকে সুগুনি হেবাংবলা হয়ে থাকে। চাকমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী খাবারের নাম পাচন তোন। 

চৈত্র সংক্রান্তির উত্সব বিঝু’-তে বাড়িতে বাড়িতে পাচন রান্না করে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। কমপক্ষে পাঁচটি সবজির সংমিশ্রণে এটি রান্না হয় বলেই এ রকম নামকরণ। তবে বিঝুর পাঁচনে পাঁচের অধিক সবজি ব্যবহার করা হয়। চাকমাদের খাবারের তালিকায় মিষ্টান্নের খুব একটা প্রচলন না থাকলেও বিভিন্ন উত্সবে পায়েস আপ্যায়ন করা হয়। এছাড়া বিনি চাল আর নারকেল দিয়ে কলাপাতায় মুড়ে বানানো হয় বিনি পিঠা। চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি হয় বড়া পিঠা, শান্নে পিঠা ইত্যাদি। চাকমা সমাজে বয়স্কদের মধ্যে তামাক খাওয়ার প্রচলন আছে। তাদের তৈরি নিজস্ব হুঁক্কার মাধ্যমে তামাক সেবন করা হয়। এই হুঁক্কাকে চাকমা ভাষায় দাবা বলে।

চাকমা সার্কেলের প্রধান কে

চাকমা সার্কেলের প্রধান হলো চাকমা রাজা। বর্তমানে চাকমা রাজা হলো দেবাশীষ রায়। দেবাশীষ রায়ের জন্ম: ৯ এপ্রিল ১৯৫৯, তিনি একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী। তিনি জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামে আদিবাসী বিষয়ক সাবেক সদস্য। তিনি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তম উপজাতি সম্প্রদায় চাকমা সার্কেলের রাজাদেবাশীষ রায় পেশায় একজন ব্যারিস্টার। তিনি ২০০৬-২০০৮ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের সময় একজন মন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসাবে কাজ করেছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তাঁর বাবা ত্রিদিব রায় নির্বাসনে গেলে রায় চাকমা সার্কেলের রাজা হন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রিদেব রায় পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত অ-আওয়ামী লীগের ২ জন প্রার্থীর একজন ছিলেন। প্রাক্তন রাজা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষে তিনি রাঙ্গামাটি ছেড়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তবে রানী ও যুবরাজ সহ রাজপরিবারের বেশিরভাগ সদস্য রাঙ্গামাটি প্রাসাদে ছিলেন। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরে, পিতার অনুপস্থিতির কারণে যুবরাজ দেবাশীষ রায় নিজেকে রাজা ঘোষণা করেছিলেন।

চাকমা পোশাক 

চাকমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতি রয়েছে। চাকমা মেয়েদের পোশাক সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত। চাকমা নারীরা বেইন নামক তাঁতে কাপড় তৈরি করে থাকেন। চাকমাদের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের নাম পিনোন হাদি, যা বিভিন্ন নকশা ও সুতার মিশ্রণে বোনা হয়ে থাকে। পোশাকের নিচের অংশকে পিনোন, যা কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত এবং ওপরের অংশকে হাদি বলা হয়। পিনোনের সঙ্গে চিবুকি নামক সুন্দর নকশাযুক্ত আচল থাকে। হাদির সঙ্গে তারা ব্লাউজ পরিধান করে থাকেন। তারা মাথায় খবংও পড়ে থাকেন। আগেকার দিনে তারা তাদের জুম ক্ষেতের উৎপাদিত তুলা থেকে এসব পিনোন-হাদি তৈরি করতেন কিন্তু বর্তমানে তারা বাজার থেকে কেনা সুতা দিয়েও এই কাপড় বুনে থাকেন। চাকমা আদিবাসী পুরুষরা টন্নে হানি, জুন্নাছিলুম, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে থাকে।

ছাড়াও তারা তাদের কঠিন চীবর দান, মহাসংঘ দান এবং বুদ্ধ পূর্ণিমাসহ আরও সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী পোশাক অর্থাৎ পিনোন-হাদি পরিধান করে থাকেন। আলাম নামক কাপড়ে তারা তাদের নকশা সংরক্ষিত করে রাখেন। চাকমা আদিবাসী মেয়েরা বিভিন্ন রংয়ের পিনোন-হাদি পরেন। তবে তাদের প্রধান রঙ কালো ও লাল, যা চাকমা ভাষায় বলা হয় হালা ও রাঙা। জুম ক্ষেতে উৎপাদিত তুলার আঁশ মোটা ও খসখসে হয়ে থাকে। এই তুলা দিয়ে তৈরি পোষাক তারা কঠিন চীবর দানে ধর্মীয় প্রধানকে উপহার দিয়ে থাকেন।

চাকমা শব্দের উৎস

চাকমারা মূলত বীরের জাতি। এবং চাকমা শব্দটি এসেছেও সংস্কৃত শব্দ শক্তিমান থেকে। বর্মী রাজত্বের শুরুর দিককার সময়ে বর্মী রাজারা এই চাকমা নামকরনের প্রচলন করেন। তখনকার সময়ে বর্মী রাজারা, চাকমাদের রাজার পরামর্শক, মন্ত্রী এবং পালি ভাষার বৌদ্ধধর্মের পাঠ অনুবাদকের কাজে নিয়োগ প্রধান করতেন। রাজা কর্তৃক সরাসরি নিয়োগকৃত হওয়াতে বর্মী রাজ দরবারে চাকমারা বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। বার্মায় প্রচলিত চাকমাদের নাম সংক্ষেপ "সাক" শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শক্তিমানের বিকৃত রুপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরই এক পর্যায়ে, জনগোষ্ঠীটির নাম "সাকমা" এবং পরবর্তীতে বর্তমান "চাকমা" নামটি গ্রহণযোগ্যতা পায়।

চাকমা উপজাতির ধর্ম

বেশির ভাগ চাকমা শত শত বছরের পুরাতন থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্ম অনুসরণ করে। তাদের বৌদ্ধ ধর্ম পালনের মধ্যে হিন্দুধর্ম ও অন্যান্য প্রাচীন ধর্মের মিল পাওয়া যায়।

প্রায় প্রত্যেক চাকমা গ্রামের বৌদ্ধ মন্দির বা হিয়ং আছে। বৌদ্ধ সন্যাসীদের ভান্তে বলা হয়। তারা ধর্মীয় উৎসব ও অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধায়ন করে। গ্রামবাসীরা ভিক্ষুদের খাবার, উপহার, ইত্যাদি দিয়ে সাহায্য করে। 

চাকমারা হিন্দু দেব-দেবীর পূজাও করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, লক্ষীদেবীকে চাষাবাদের দেবী হিসেবে পূজা করা হয়। চাকমার বিশ্বাস করে কিছু আত্মা পৃথিবীতে জ্বর ও রোগব্যাধি নিয়ে আসে এবং এসব আত্মাদের সন্তুষ্ট রাখার জন্য এরা ছাগল, মুরগী, হাঁস, ইত্যাদি বলি দেয়। যদিও বৌদ্ধ বিশ্বাসমতে পশুবলি সর্ম্পূণ নিষিদ্ধ, সাধারণত বৌদ্ধ ভিক্ষুকরা এসব মানেন না।



চাকমা উপজাতির ভাষা

চাকমা মূল কথ্য ভাষা আর্য ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। কিছু চাকমার কথার মধ্যে প্রতিবেশী চাঁটগাঁইয়া ভাষার সাথে সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়, যেটি মূলত পূর্ব ইন্দো আরিয়ান ভাষা বংশের একটি ভাষা এবং এটি আসামী ভাষার সাথে সম্পর্কযুক্ত। অনেক ভাষাবিদ মনে করেন, আধুনিক চাকমা ভাষা (চাংমা ভাজ অথবা চাংমা হধা নামে পরিচিত) পূর্ব ইন্দো-আরিয়ান ভাষার অংশ। চাকমা ভাষার লিখিত হয় এর নিজস্ব লিপি চাকমা লিপিতে।

চাকমা উপজাতির সংস্কৃতি

চাকমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, লোক সাহিত্য, সাহিত্য ও ঐতিহ্য আছে। চাকমারা কোমর জড়ানো গোড়ালি পর্যন্ত পোশাক পরে যাকে পিনোন বলা হয়। কোমরের উপর অংশকে বলা হয় হাদি। হাদি আর পিনোন সাধারণত রঙবেরঙের বিভিন্ন নকশার হয়।পুরুষরা "সিলুম" নামক গায়ের জামা এবং "টেন্নে হানি" নামক জামা পরিধান করে। এই নকশা প্রথমে আলাম নামে পরিচিত এক টুকরা কাপড়ের উপর সেলাই করা হয়।

চাকমা উপজাতির উৎসব

চাকমাদের সবচেয়ে বড় জাতিগত উৎসব বিজু। বাংলা বছরের শেষ দুদিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করা হয়। বাংলা বছরের শেষ দিনের আগের দিনকে বলা হয় ফুল বিজু এবং শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি বা মূল বিজু। ফুল বিজুর দিন সকাল বেলা চাকমারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজায়, বুড়ো-বুড়িদের গোসল করায় এবং তাদেরকে নতুন কাপড় দেয়। রাতে বসে পরের দিনের পাচন তরকারি রান্নার জন্য সবজি কাটতে বসে যা কমপক্ষে ৫টি এবং বেশি হলে ৩২ রকম সবজি মিশেলে রান্না করা হয়। পরের দিন মূল বিজু, এদিন চাকমা তরুণ-তরুণীরা খুব ভোরে উঠে কলা পাতায় করে কিছু ফুল পানিতে ভাসিয়ে দেন। তারপর সবাই বিশেষ করে ছোটোরা নতুন জামা-কাপড় পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে থাকে। তবে গ্রাম গুলোতে প্রাচীনকালের মতোন করে"ঘিলে হারা"(খেলা) হয়। পরের দিন নতুন বছর বা গয্যে পয্যে,নতুন বছরের দিন সবাই বৌদ্ধ মন্দিরে যায়,খাবার দান করে,ভালো কাজ করে,বৃদ্ধদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নেয়।বুদ্ধ পূর্ণিমা উল্লেখ্য চাকমা লোকসাহিত্য বেশ সমৃদ্ধশালী। তাদের লোক কাহিনীকে বলা হয়উবগীদ। চাকমাদের তাল্লিক শাস্ত্র বা চিকিৎসা শাস্ত্র অনেক সমৃদ্ধ। আর বয়ন শিল্পে চাকমা রমণীদের সুখ্যাতি জগৎ জুড়ে।

তথ্য সংগ্রহ: উইকিপিডিয়া

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url