টেসলা ইনকর্পোরেশন ইতিহাস । টেসলা বাংলাদেশ ২০২২

  টার্পেনিং (বামে) এবারহার্ড (ডানে)

টেসলা ইনকর্পোরেশন ইতিহাস।টেসলা বাংলাদেশ ২০২২: বর্তমান সময়ে টেসলা একটি বহু চর্চিত নাম। সেটা টেসলা গাড়ির গুনেই হোক কিংবা সাহসী উদ্যোগতা ইলেন মাস্ক এর জন্যই হোক। আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করবো টেসলা মোটর্স এর ইতিহাস, এবং টেসলা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য। টেসলার পণ্য মুক্তি দেওয়ার কৌশল সাধারণ প্রযুক্তিগত-পণ্যের জীবন চক্র অনুকরণ এবং প্রাথমিকভাবে ধনী ক্রেতাদের টার্গেট করেতারপর কম মূল্য পয়েন্টে বৃহত্তর বাজারে স্থানান্তরিত হয়। প্রতিটি মডেলের জন্য ব্যাটারি এবং বৈদ্যুতিক ড্রাইভট্রেন প্রযুক্তি উন্নত এবং আংশিক ভাবে পূর্ববর্তী মডেল বিক্রয়ের মাধ্যমে কোটা পূরণ করা হয়। রোডস্টার কম ভলিউমের ছিল এবং মূল্য ছিল ১০৯,০০০ মার্কিন ডলার। মডেল এস এবং মডেল এক্স এর লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর বিলাসবহুল বাজার। মডেল ৩ এবং মডেল ওয়াই একটি উচ্চ-ভলিউম সেগমেন্টের গাড়ি ছিল।

টেসলা গাড়ি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা কে

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন গাড়ি বলতে মানুষ বুঝত গ্যাসোলিন ডিজেল চালিত গাড়িকেই, এবং টেসলা ছিল শুধুই একজন মহান উদ্ভাবকের নাম।কিন্তু দিন বদলেছে। দেশে দেশে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিদ্যুৎচালিত গাড়ি।গাড়ি কেনার সময় গ্যাসোলিনের পাশাপাশি ইলেক্ট্রিক গাড়ির ব্যাপারেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে মানুষ।এই দিন বদলের পেছনে যে নামটি সবচেয়ে জোরেশোরে উচ্চারিত হয় তা হলো টেসলা, পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ইলেক্ট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক কোম্পানি। 

আরো পড়ুন:

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ সময়সূচী
স্ন্যাপচ্যাট কী ?
মোবাইল বা স্মার্টফোন গরম হয় কেন?
Ezoic (ইজোইক) কী?

টেসলা সর্বপ্রথম টেসলা মোটরস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় জুলাই , ২০০৩ সালে। প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মার্টিন এবারহার্ড এবং মার্ক টারপেনিং জেনারেল মোটরস ২০০৩ সালে তাদের সকল ইভি- বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করার পর টেসলা কোম্পানিটি শুরু করার জন্য দুইজন প্রতিষ্ঠাতা প্রভাবিত হন এবং ব্যাটারি-চালিত গাড়ির উচ্চ দক্ষতা উচ্চ কর্মক্ষমতা এবং কম মাইলেজের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক ভাঙ্গার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন। এবারহার্ড বলেছিলেন যে তিনি "একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রযুক্তি কোম্পানি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, যার মূল প্রযুক্তি হবে ব্যাটারি, কম্পিউটার সফটওয়্যার এবং বৈদ্যুতিক মোটর"


ইয়ান রাইট টেসলার তৃতীয় কর্মচারী ছিলেন তিনি কয়েক মাস পরে যোগ দেন। এই তিনজন ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিরিজ ফান্ডে . মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন যেখানে এলন মাস্ক . মিলিয়ন মার্কিন ডলার অবদান রাখেন। তিনি কোম্পানি পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হন এবং এবারহার্ডকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেন।

জে.বি. স্ট্রাউবেল মে ২০০৪ সালে টেসলাতে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এবারহার্ড এবং টেসলা কর্তৃক সম্মতি পাওয়া একটি মামলা নিষ্পত্তির ফলে পাঁচজন (এবারহার্ড, টারপেনিং, রাইট, কস্তুরী এবং স্ট্রুবেল) নিজেদের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বলে অভিহিত করতে পারেন। শুরুর দিকে নিজেদের গাটের পয়সা দিয়েই কোম্পানি চালাচ্ছিলেন তারা। কিন্তু গাড়ি উৎপাদনে যেতে হলে প্রয়োজন বিশাল অঙ্কের অর্থ, যা তাদের একার পক্ষে যোগান দেয়া সম্ভব ছিল না। তাই তারা টেসলার জন্য নতুন বিনিয়োগকারী খুঁজতে শুরু করেন। গল্পের এই জায়গায় আবির্ভাব ঘটে এলন মাস্কের।

ইলন মাস্ক এবং টেসলা

ইলন মাস্ক এবং টেসলা

ইলন মাস্ক তখন সদ্য বিলিয়নিয়রে পরিণত হয়েছেন। পেপালে থাকা নিজের শেয়ার বিক্রি করে তিনি ১৬৫ মিলিয়ন ডলারের মালিক বনে গিয়েছিলেন। একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি তখন এই অর্থ নতুন কোথাও বিনিয়োগের কথা ভাবছিলেন। এসময় টেসলার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তিনি টেসলায় বিনিয়োগে আগ্রহী হন। প্রাথমিকভাবে মাস্ক ৬.৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ বিনিয়োগ করেন টেসলাতে।এই বিনিয়োগের পর তিনি টেসলার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

টেসলা কোম্পানি - টেসলা গাড়ির বৈশিষ্ট্য

টেসলা কোম্পানি উন্নত মডেলের গাড়ি নির্মাণ করে।তারা মূলত জ্বালানি তেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ করে।এই ক্ষেত্রে গাড়িগুলোতে জ্বালানি ভরার পরিবর্তে চার্জ দিতে হয়।এই প্রযুক্তির ব্যবহারে একদিকে যেমন জ্বালানি বাঁচানো সম্ভব, অন্যদিকে দূষণের হাত থেকে পরিবেশকে অনেকটাই রক্ষা করা যায়।

সম্ভবত টেসলা কোম্পানি ভারতে টেসলার মডেল গাড়ি দিয়ে তাদের বাণিজ্য শুরু করতে চলেছে। মডেল ২০১৭ সালে প্রথম চালু হয়।মডেল গাড়িটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ি মডেল গাড়িটি একবার চার্জ দিলে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম হবে, এছাড়াও এটির চার্জ হতে সময় লাগবে মাত্র ১৫ মিনিট এমনটাই সম্ভাবনা আছে।বাইরে থেকে একদম তৈরি অবস্থায় এনে ভারতের বাজারে রপ্তানি হবে তাই গাড়িগুলি প্রিমিয়াম দামে বিক্রি হবে।

টেসলা গাড়ির দাম

ভারতে টেসলা গাড়ির দাম কত পড়বে এই প্রশ্নের সাপেক্ষে বর্তমানে টেসলার তিনটি মডেলের মধ্যে বলা যায় ভারতে মডেল এর দাম হতে পারে ৫৫-৬০ লক্ষ টাকার মতো।এছাড়া টেসলা মডেল s এর দাম হতে পারে .৫০ কোটি টাকা এবং মডেল x এর দাম হতে পারে কোটি টাকা পর্যন্ত। যা মধ্যবিত্তের ধরাছোঁয়ার বাইরে।তবে সম্প্রতি গাড়িগুলি প্রিমিয়ামে বিক্রি হলেও পরবর্তীতে মধ্যবিত্তের হাতের নাগালে গাড়িগুলি যাতে আনা যায় সেদিকে  কোম্পানি নজর দেবে এমনি আশ্বাস দিয়েছে।

স্বল্পমূল্যের ভেরিয়েন্ট মডেল সেডান এবং মডেল ওয়াইয়ের স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকলের (এসইউভি) দাম কমিয়েছে টেসলা ইনক।বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাটির ওয়েবসাইটের ঘোষণা অনুযায়ী, মডেল স্ট্যান্ডার্ড রেঞ্জ প্লাস গাড়ির দাম ৩৭ হাজার ৯৯০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩৬ হাজার ৯৯০ ডলার করেছে।যেখানে মডেল ওয়াই স্ট্যান্ডার্ড গাড়ির দাম ৪১ হাজার ৯৯০ ডলার থেকে কমিয়ে ৩৯ হাজার৯৯০ ডলার করা হয়েছে।অন্যদিকে মডেলগুলোর পারফরম্যান্স ভেরিয়েন্টগুলোর দাম আবার হাজার ডলার করে বাড়িয়েছে টেসলা।

এখন একটি মডেল থ্রি গাড়ির দাম প্রায় লাখ ইউয়ান বা ৭২ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৭ লাখ টাকা) মাত্র দু মাসের মধ্যে নিয়ে টেসলা চীনের বাজারে তাদের গাড়ির দাম দু-বার কমালো। এর আগে মডেল এস এবং মডেল এক্স গাড়ির দাম ১২ থেকে ২৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।এর আগে টেসলা এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, চীনের ক্রেতারা যাতে সুলভে তাদের গাড়ি

কিনতে পারেন সেজন্য চীনা সরকার কর্তৃক আরোপ করা করের একটি বড় অংশ কোম্পানিটিনিজেরাই বহন করছে।ডিসেম্বরের শুরুতে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত গাড়ির ওপর থেকে কর কমানোরঘোষণা দেয়ার পর ডিসেম্বরের শুরুতেও টেসরার গাড়ির দাম কমানো হয়েছিল।

ইলেন মাস্কের মিথ্যে আশ্বাস

শুরু থেকেই আমরা শুনে আসছি টেসলা মধ্যবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে গাড়ি নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। মাস্ক তার প্রতিটি সেমিনার এবং বক্তব্যে বার বার উল্লেখ করেছেন মধ্যবিত্তর ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসবে টেসলার দাম কিন্তু টেসলাগাড়ির বর্তমান বাজার মূল্য উচ্চবিত্তদেরকেও গাড়ি কিনতে কয়েকবার ভাবায়।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url