সম্পর্কে ঘন ঘন ঝগড়া? দাম্পত্য জীবনে সুখি হওয়ার উপায়

সম্পর্কে ঘন ঘন ঝগড়া? দাম্পত্য জীবনে সুখি হওয়ার উপায় ৫ টি উপায়

দিন যত যাচ্ছে মানব জীবনের ব্যস্ততা তত বাড়ছে। তারসাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে সম্পর্কে ঘন ঘন ঝগড়া আর বর্তমান সময়ের অফিসিয়াল চাকরির চাপের কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন দেখছিনা। অফিসের অতিরিক্ত চাপ খুবই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এক দিকে কাজের চাপ, অন্যদিকে সম্পর্ক রক্ষার তাগিদ। সব মিলিয়ে মানসিক চাপ মারাত্মক ভাবে বাড়ছে। এই টানাপড়েনের মাঝে কী ভাবে বজায় থাকবে ব্যক্তিগত সমীকরণের উষ্ণতা? 

দাম্পত্য জীবনে সুখি হওয়ার উপায় ৫ টি উপায়

  • একে অন্যের কাছে এসে জানান মানসিক চাপের কথা। মেনে নিন যে সময়টা সত্যিই কঠিন। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হলে আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতে হবে। এটাই দস্তুর। তাই ভাল লাগুক বা না লাগুক। সঙ্গীকে জানাতে হবে সবটুকু।
  • একে অপরকে প্রয়োজনীয় জায়গা দিন। একসঙ্গে থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তিমানুষের কিছুটা নিজস্ব জায়গা প্রয়োজন। নয়তো যে কোনও সম্পর্কই গুমোট হয়ে আসতে পারে। নিজেও সেই জায়গা নিন, সঙ্গীকেও সেই জায়গাটুকু দিন। দিনে কিছুটা সময় বার করুন যেটা একান্তই আপনার নিজস্ব। সেই সময়ে নিজের পছন্দের কোনও কাজ করুন। দেখবেন বাকি সময়টা সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো অনেক সহজ হবে।
  • দাম্পত্য জীবনের একটি বড় দিক শারীরিক সম্পর্ক। যাঁরা কর্মক্ষেত্র নিয়ে সারা দিন ব্যস্ত থাকতেন তাঁরা বাড়ি ফিরে নতুন করে খুঁজে দেখার চেষ্টা করুন একে অন্যকে। তবে খেয়াল রাখবেন সঙ্গীর চাহিদা আর আপনার ইচ্ছের মধ্যে যেন অবশ্যই ভারসাম্য থাকে।
  • নতুন করে আবিষ্কার করুন নিজেদের। আপাত তুচ্ছ অনেক কাজও ব্যস্ততার মধ্যে হয়ে উঠতে পারে মরুদ্যান। সন্তানের পড়াশোনাতে একসঙ্গে সহায়তা করা থেকে রাতের খাবার তৈরি, সবই করুন হাত মিলিয়ে।
  • কথোপকথনের কোনও বিকল্প নেই। মুখোমুখি বসে, কথোপকথনের মাধ্যমে টানাপড়েন নিয়ে কথা বলুন। ঝগড়ার পরেও মানসিক আদানপ্রদানের দরজাটি যেন বন্ধ না হয়।

বিবাহিত জীবনে সুখে থাকার উপায়

কথায় বলেপুরুষ মানুষ দুই প্রকার। জীবিত আর বিবাহিত। সত্যিই কি বিয়ের পর পুরুষের সুখ চলে যায়? তাঁদের মন বিষিয়ে ওঠে? কিন্তু উপায় কী। হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞরা বের করেছেন, বিবাহিত কিংবা দাম্পত্য জীবনে কীভাবে সুখে থাকা যায়। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে সম্পর্কবিশেষজ্ঞ টি তাশিরো বলেছেন, আপনি যদি অসাধারণ কাউকে পেতে চান, তাহলে আপনার জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন হয়ে পড়বে। তাশিরো তাঁর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, যদি একটি ঘরের মধ্যে মধ্যম মান, আয়, চেহারা ও উচ্চতার ১০০ জন পুরুষ থাকেন, তাহলে সেখানে মাত্র ১৩ জন বিবাহযোগ্য পুরুষ পাওয়া যাবে। আর যদি কেউ ওই ১০০ জনের মধ্য থেকে আকর্ষণীয়, ছয় ফুট লম্বা কিংবা ৮৭ হাজার ডলার আয় করা কোনো পুরুষকে খোঁজেন, তাহলে মাত্র একজন পুরুষের দেখা মিলবে। আর কৌতুকবোধসম্পন্ন, দয়ালু, এমনকি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন পুরুষের সন্ধান করা হয়, তাহলে ১০০ জন পুরুষের মধ্যে একজনই পাওয়া অসম্ভব। ভড়কে গেলেন। ভাবছেন কাকে নিয়ে সংসার সাজাবেন? বিবাহিত জীবনে সুখে থাকবেন কীভাবে?


তাশিরোর যুক্তি হলোটাকা-পয়সা, সৌন্দর্য বিবাহিত জীবনকে সুখী করতে পারে না। অন্তত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। তাঁর মতে, একটি ভালোবাসাময় সুখী বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবার মধ্যে যে গুণটি থাকা প্রয়োজন, তা হলোআন্তরিকতা। আন্তরিক বলতে তিনি এমন কাউকে বুঝিয়েছেন, যিনি হবেন বিনীত, নমনীয়, বিশ্বাসযোগ্য, ভালো স্বভাব, সহযোগী মনোভাবাপন্ন, ক্ষমাশীল, উদার ও ধৈর্যশীল।অন্য আরেক দল গবেষক মনে করে, ভালোবাসাই একজন নারী ও একজন পুরুষের মাঝে হূদয়ের অটুট বন্ধন তৈরি করে দেয়। তৈরি করে সাংসারিক বন্ধন। ভালোবাসা ব্যতীত কোনো সাংসারিক কিংবা দাম্পত্য জীবন সুখের হয় না। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। একজনকে বাদ দিয়ে অন্যজন শূন্য, ফাঁকা। একজন সুন্দর মনের ও সুন্দর গুণের স্ত্রী সংসারকে তাঁর নিজের আলোয় আলোকিত করে তুলতে পারেন। সাজিয়ে তুলতে পারেন সংসার জীবনকে সুখের স্বর্গীয় বাগানের মতো করে। তবে এই কাজের জন্য দরকার প্রেমিক স্বামীর স্ত্রীর প্রতি ঐকান্তিক মায়া-মমতা ও সুগভীর ভালোবাসা। এই ভালোবাসা থাকলে দেখবেন, বিবাহিত জীবনে সুখ কাকে বলে!

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url