রিয়েলমি সি ৩৫ ফোনের দাম, ফিচার ও স্পেসিফিকেশন।Realme C35

রিয়েলমি সি ৩৫ ফোনের দাম, ফিচার ও স্পেসিফিকেশন।Realme C35
রিয়েলমি সি৩৫: প্রিমিয়াম ডিজাইনের এই ফোনটির ক্যামেরা নিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি প্রদান করছে রিয়েলমি। এই পোস্টে আপনাদের জানাবো রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটির দাম ও স্পেসিফিকেশন সম্পর্কে বিস্তারিত।

রিয়েলমি সি ৩৫ ফোনের দাম

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটি পাওয়া যাবে শুধুমাত্র ৪জিবি র‍্যাম ও ১২৮জিবি স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্টে। রিয়েলমি সি৩৫ এর দাম ১৬,৯৯০টাকা।

রিয়েলমি সি ৩৫ ফুল স্পেসিফিকেশন

  • ডিসপ্লেঃ ৬.৬ইঞ্চি
  • প্রসেসরঃ ইউনিসক টি৬১৬
  • র‍্যামঃ ৪জিবি
  • স্টোরেজঃ ১২৮জিবি
  • ব্যাক ক্যামেরাঃ ৫০মেগাপিক্সেল ট্রিপল ক্যামেরা
  • ফ্রন্ট ক্যামেরাঃ ৮মেগাপিক্সেল
  • ব্যাটারিঃ ৫০০০মিলিএম্প
  • চার্জিংঃ ১৮ওয়াট
  • দামঃ ১৬,৯৯০টাকা

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনের  ডিজাইন ও ডিসপ্লে

রিয়েলমি সি সিরিজের অন্যসব ফোনের চেয়ে রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটি অনেকটা আলাদা। বলতে গেলে এই বাজেটে একটি অনন্য ডিজাইনের ফোন হলো রিয়েলমি সি৩৫। ফোনটিতে ফ্ল্যাট সাইড ও এজ রয়েছে ম্যাট ফ্রেম এর সাথে। এছাড়া ফোনটির রিয়ার প্যানেল ফ্ল্যাট না হলেও রয়েছে গ্লসি ফিনিশ। অর্থাৎ এই ফোনের প্রধান একটি সেলিং পয়েন্ট হলো এর ডিজাইন।

রিয়েলমি সি৩৫ এর ব্যাক প্যানেলে বেশ সুন্দরভাবে স্থান পেয়েছে ফোনটির ক্যামেরা মডিউল। বক্সি ডিজাইন ফোনটিকে মডার্ন লুক প্রদান করলেও শার্প এজ এর কারণে ফোনটি হাতে ধরতে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে অনেকের কাছেই। রিয়েলমি সি৩৫ এর ডানদিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন, যাতে ফোনটির ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর স্থান পেয়েছে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটির ডিসপ্লে হলো ৬.৬ইঞ্চির ফুল এইচডি প্লাস এলসিডি প্যানেল, তবে থাকছেনা কোনো হাই রিফ্রেশ রেট সুবিধা। ফোনটির ডিউড্রপ-নচ সবচেয়ে বেশি বিরক্তিকর লাগবে এই ফোনে। যেখানে সকল ফোনে বর্তমানে পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে স্ট্যান্ডার্ড হয়ে গিয়েছে, সেখানে এই দামের ফোনে এই ড্রপডাউন ডিসপ্লে অনেকটা বেমানান। এই ড্রপডাউন নচ এর কারণে ফোনটির ডিজাইন বেশ আউটডেটেড লাগে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনের ক্যামেরা

কথা বলা যাক রিয়েলমি সি৩৫ এর হাইলাইটিং ফিচার, ফোনটির ক্যামেরা সম্পর্কে। রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটিতে ট্রিপল রিয়ার ক্যামেরা সেটাপ রয়েছে। ৫০মেগাপিক্সেল এর প্রাইমারি ক্যামেরার পাশাপাশি ২মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ও ২মেগাপিক্সেলের ব্ল্যাক-এন্ড-হোয়াইট ক্যামেরা রয়েছে। ফোনের ফ্রন্টে রয়েছে ৮মেগাপিক্সেলের সেল্ফি ক্যামেরা। 

অর্থাৎ রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটিতে কোনো ধরনের আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা থাকছেনা। বর্তমানে যেখানে ১৫হাজার টাকার কম দামের ফোনেও আলট্রা-ওয়াইড ক্যামেরা দেখা যায়। রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটির প্রাইমারি সেন্সর যথেষ্ট ভালো হলেও একাধিক কার্যকর ক্যামেরা লেন্স থাকলে তা নির্দিষ্ট সময়ে কাজে আসতে পারে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটিতে সর্বোচ্চ ১০৮০পি ৩০এফপিএস ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। যেহেতু এই ফোনে কোনো ধরনের স্ট্যাবিলাজেশন ফিচার নেই, তাই ভালো ভিডিও পেতে হলে বেশ শক্তহাতে ভিডিও রেকর্ড করতে হবে।এক কথায় বলতে গেলে ক্যামেরা সেকশনেও কোনো ধরনের আহামরি লেভেলের চমক দেখাতে পারেনি রিয়েলমি সি৩৫। এই বাজেটের অন্য দশটা ফোনের কাতারেই রাখতে হবে এই ফোনটির ক্যামেরাকে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনের পারফরম্যান্স

রিয়েলমি সি৩৫ এর প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে ইউনিসক টি৬১৬ চিপসেট। এই প্রসেসরের সাথে যারা অপরিচিত তাদের বুঝার সুবিধার্থে এটিকে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮৫ এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অন্যান্য সবদিক দিয়ে ইউনিসক টি৬১৬ আর জি৮৫ প্রায় একই ধরনের পারফরম্যান্স প্রদান করলেও জি৮৫ এগিয়ে থাকবে গেমিং এর ক্ষেত্রে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটিতে ৪জিবি র‍্যাম ও ১২৮জিবি স্টোরেজ আছে। ডুয়াল সিম এর পাশাপাশি ডেডিকেটেড এসডি কার্ড স্লট রয়েছে ফোনটিতে যা ১টেরাবাইট পর্যন্ত এসডি কার্ড সাপোর্ট করে। ফোনটিতে কোনো ধরনের ৫জি সুবিধা থাকছেনা।

রিয়েলমি ইউআই আর এডিশনে (R Edition) দ্বারা চলবে রিয়েলমি সি৩৫। এই রিয়েলমি ইউআই আর এডিশন হলো রিয়েলমি ইউআই এর কাটছাট ভার্সন যা রিসোর্স-ইনটেনসিভ ফিচার ও কাস্টমাইজেশন অপশন বাদ দিয়ে স্মুথ পারফরম্যান্স প্রদান করে। অ্যান্ড্রয়েড ১১ এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই লাইটওয়েট রিয়েলমি ইউআই।তবে এই ফোনটি থেকে আহামরি পারফরম্যান্স আশা করাটা বেশ বোকামি হবে। 

ফোনটির প্রসেসর বেশ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি র‍্যামে রয়েছে স্বল্পতা। আবার ফোনের ফুলএইচডি+ ডিসপ্লে চলতে অনেকটা পাওয়ার এর দরকার। সব মিলিয়ে ফোনটির পারফরম্যান্স অনেকের কাছে হতাশাজনক মনে হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনের ব্যাটারি

রিয়েলমি সি৩৫ ফোনটিতে ৫০০০মিলিএম্প এর ব্যাটারি রয়েছে। ফোনের বক্সে দেওয়া থাকা ১৮ওয়াট এর চার্জার দ্বারা ফোনটিকে চার্জ করতে দুই ঘন্টার কিছু বেশি সময় লাগবে। যেহেতু এই ফোনটির অন্যান্য সেকশনে বেশ গড়িমসি করেছে রিয়েলমি, সেক্ষেত্রে ফোনের ব্যাটারি ও চার্জিং সেকশনে আকর্ষণীয় কোনো ফিচার রাখলে সেটি ফোনটির মূল সেলিং পয়েন্ট হতে পারতো।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url