সেনাবাহিনীর সৈনিক এবং অফিসারদের বেতন কত

আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার এবং সৈনিকদের বেতন স্কেল কত? অন্যান্য সার্ভিস হোল্ডারদের সেলারি সম্পর্কে আমাদের যথাযথ ধারণা থাকলেও সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল সম্পর্কে আমাদের ধারণা অনেকটাই কম। আজকের এই ব্লগে আপনাদের সামনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

সেনাবাহিনীর বেতন স্কেল 




 

Recruite সৈনিক এর বেতন কত

Recruite সৈনিকের বেতন সাধারণত ৯০০০ টাকা হয়ে থাকে। তবে খুব ক্ষেত্র বিশেষে কেউ ৯৫০০০ পেতে পারে। এটা নির্ধারিত একটি বেতন। 

রিক্রুট হল তারা যারা ট্রেনিং অবস্থায় থাকে। এদের বেতন ট্রেনিং চলাকালীন দেওয়া হয়না, ট্রেনিং শেষে সমস্ত বেতন একসাথে দেওয়া হয়। একজন রিক্রুট কে শুধুমাত্র মূল বেতন এবং চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। মূল বেতন ৯ হাজার এবং চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা। এরপরে মূল বেতন বাড়লেও চিকিৎসাভাতা একই রকম থেকে যায়, সৈনিক থেকে অনারারী ক্যাপ্টেন পর্যন্ত। 

প্রশিক্ষণ চলাকালীন ক্যান্টেমেন্ট থেকে  প্রয়োজনীয় সকল জিনিস কেনাকাটা করার সুযোগ দেওয়া হয় এবং আরো কিছু বাধ্যতামূলক খরচ থাকে যেগুলো একত্র করে ট্রেনিং শেষে হিসাব করে অবশিষ্ট টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ চলাকালীন নববর্ষ আসলে মূল বেতনের ২০ পার্সেন্ট ১৮০০ টাকা এবং আসলে মূল বেতনের সমপরিমাণ ৯০০০ টাকা দেওয়া হয়।

সেনাবাহিনীর ভাতা সমূহ

একজন সৈনিকের সাধারণ বেতন ৯৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২১,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে। চলুন আমরা বিস্তারিত ভাবে জেনে নিই, ট্রেনিং শেষে সৈনিক মাসিক হারে বেতন প্রদান করা হয়। 

সৈনিক হলেও বেতন একই থাকে তবে বিভিন্ন ভাতা দিয়ে টাকা প্রায় মূল বেতনের ডাবল হয়ে যায়। ৯৫০০ টাকা বেতনের সাথে অন্য একটি ভাতার দিয়ে হয় ৯৮১৫ টাকা। অবিবাহিত হলে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ২০% এবং বিবাহিত হলে বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৪৫%। চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা, প্রতিরক্ষা ভাতা ১৫০০ টাকা, তবে এই প্রতিরক্ষা ভাতা ৫ বছর পরপর এবং পদোন্নতিতে বৃদ্ধি করা হয়। যাতায়াত ভাতা ৩০০০ টাকা।

প্রাথমিকভাবে একজন সৈনিকের বেতন হবে ১৪,০০০ টাকা মতো। এটা সকল সৈনিকের নিধারিত বেতন। এর বাহিরে যারা পাহাড়ে ডিউটিরত থাকবে তাদের জন্য সর্বশেষ নির্ধারিত মূল বেতনের ২০% হারে ভাতা প্রদান করা হবে। এছাড়া প্রতিটি সৈনিকের থাকা ও খাবার সম্পূর্ণ ফ্রি এবং নিজের ও পরিবারের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ফ্রি সুবিধা রয়েছে। 

বাংলাদেশের প্রতিটি সেনানিবাসে ১ টা করে চিকিৎসা রয়েছে। যার চিকিৎসা গুনগতমান অত্যাধুনিক এবং উন্নত। প্রতি বছরের জুলাই মাসে একজন সৈনিকের তখনকার মূল বেতনের ৫% হারে বেতন বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া ১ টি সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা এবং ২ টি সন্তানের জন্য ১০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রদান করা হয়। ৩ টি সন্তানের উপর শিক্ষা প্রদান করা হয় না।

ল্যান্স কর্পোরাল এর বেতন কত

একজন ল্যান্স কর্পোরাল বেতন শুরু হয় ১০,২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে। কেউ যদি সৈনিক পদে থেকে ল্যান্স কর্পোরালে পদোন্নতি হলে, ১০,২০০ এর উপরে বেতন হলে সৈনিকের তখনকার বেতন ম্যাচ হয়ে সেই বেতন পেতে থাকবে। সেটা থেকে ল্যান্স কর্পোরাল বেতন শুরু হবে। তখন বেসিক বেতন ১০,২০০ থেকে শুরু হবে না।

কর্পোরাল এর বেতন কত

এরপর কর্পোরালে সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে বেতন ২৬,০০০ পর্যন্ত বাড়বে।

সার্জেন্ট এর বেতন কত

একজন সার্জেন্টের সর্বনিম্ন ১৬,০০০ টাকা হতে শুরু করে ৩৮,৫০০ হাজার পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে। যদি প্রমোশন পদের স্টার্টিং বেতনের চেয়ে পূর্বের পদের বেতন কম হয়, তাহলে প্রমোশন পদ্ধতি স্টার্টিং বেতন থেকেই তার বেতন শুরু হবে। আর যদি কেউ এক্স্যন্সসে সার্জেন্ট হয় তবে তার বেতন ১৬,০০০ থেকে শুরু হবে। এছাড়া অন্যান্য ভাতাদি এটা আরো অনেক বৃদ্ধি হবে।

ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত

একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের বেতন সর্বনিম্ন ২২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪৮,০০০ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত

একজন সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বেতন সর্বনিম্ন ২২,২৫০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০,৪৬০ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার এর বেতন কত

একজন মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার বেতন সর্বনিম্ন ২২,৫০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৩,০০০ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের তিন বাহিনী সেনা, নৌ ও বিমান বেতন কাঠামো

তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল/অ্যাডমিরাল/এয়ার চিফ মার্শাল পদপর্যাদা হলে বেতন ৮৬ হাজার টাকা।

লে. জেনারেল/ভাইস অ্যাডমিরাল/এয়ার মার্শাল পদমর্যাদার ক্ষেত্রে বেতন ৮২ হাজার টাকা।

মেজর জেনারেল/রিয়ার অ্যাডমিরাল/এয়ার ভাইস মার্শাল পদের বেতন ৭৮ হাজার টাকা ।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল/কমডোর/এয়ার কমডোর পদের বেতন ৬৩ হাজার ৫৭০ টাকা।

কর্নেল/ক্যাপ্টেন (নৌ)/গ্রপ ক্যাপ্টেন পদের বেতন ৬১ হাজার টাকা।

লে. কর্নেল/কমান্ডার/উইং কমান্ডারের বেতন ৫০ হাজার টাকা।

মেজর/লে. কমান্ডার/স্কোয়াড্রন পদের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার টাকা।

এছাড়া অনারারি ক্যাপ্টেন ও অনারারি লে. (নৌ) পদের বেতন ৪২ হাজার ৮৯০ (নির্ধারিত)।

অনারারি (সেনা) ও অনারারি সাব লে. ৩৮ হাজার ৪৮০ টাকা।

ক্যাপ্টেন/লেফটেন্যান্ট (নৌ) ও ফ্লাইট লে. পদের বেতন হচ্ছে ২৯ হাজার টাকা।

লেফটেন্যান্ট (সেনা)/সাব লে. ও ফ্লাইং অফিসার পদের বেতন ২৫ হাজার টাকা।

সেকেন্ড লে., অ্যাক্টিং সাব লে. ও পাইলট অফিসারের বেতন ২৩ হাজার ১০০ টাকা।

মাস্টার চিফ পেটি অফিসার ও মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসারের বেতন ২২ হাজার ৫০০ টাকা।

চিফ আর্টিফিসার অফিসারের বেতন ২২ হাজার ৪০০ টাকা।

সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসারের বেতন ২২ হাজার ২৫০ টাকা।

চিফ পেটি অফিসার ও ওয়ারেন্ট অফিসারের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার টাকা।

সার্জেন্ট ও পেটি অফিসারের বেতন ১৬ হাজার টাকা,

সুবেদার মেজর পদের বেতন ১৫ হাজার ৭০০ টাকা,

সুবেদারের বেতন ১৪ হাজার ১২০ টাকা,

নায়েক সুবেদারের বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা

কর্পোরাল, এলএস ও হাবিলদারের বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

নায়েক, এলএসি ও এবি পদের বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা।

ল্যান্স নায়েক, ওডি এবং এসি-১ রিক্রুট পদের বেতন ৯ হাজার টাকা।

সিপাহি, রিক্রুট (এমওজিটি) পদের বেতন ধরা হয় ৮ হাজার ৮০০ টাকা। 

এটি শুধুমাত্র মূল বেতন, মূল বেতনের সাথে পদবি অনুযায়ী অনান্য ভাতা যুক্ত হবে তবে ভাতার পরিমান অবশ্যই মূল বেতের এর বেশী হবেনা। অর্থাৎ ভাতা সহ মূল বেতন দ্বিগুন এর বেশী হবেনা।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url