ফুচকা - ফুচকার ইতিহাস, ফুচকার ইংরেজি শব্দ কি? ফুচকার রেসিপি ২০২২

হ্যালো বন্ধুরা, আশাকরি সবাই অনেক ভালো আছো। "দি বিডি চ্যাটের" আজকের এই ব্লগ ফুচকা প্রেমিদের জন্য অনেক আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। আজকের এই ব্লগে আমরা আলোচনা করবো, ফুচকা বানানো, ফুচকা খাবেন, ফুচকা খেলে কি হয়, ফুচকার ইতিহাস, ফুচকা খেতে কেমন লাগে, দই ফুচকা, ফুচকা বানানো মেশিন, ফুচকা রেসিপি, ফুচকা তৈরির ব্যবসা। বাংলাদেশের সেরা ফুচকার দোকান নিয়ে। আর দেরি না করে মূল আলোচনা শুরু করি।

ফুচকা - ফুচকার ইতিহাস, ফুচকার ইংরেজি শব্দ কি? । ফুচকার রেসিপি ২০২২

ফুচকার ইতিহাস এবং উৎপত্তি 

ফুচকা একটি অতি জনপ্রিয় সুস্বাদু ভারতীয় উপমহাদেশর মুখরোচক খাদ্য। বাংলাদেশ এবং ভারতের শহরাঞ্চলে প্রায় সর্বত্রই এই খাদ্যটির প্রচলন রয়েছে। অঞ্চলভেদে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত। 

আটা এবং সুজি দ্বারা প্রস্তুত একটি গোলাকৃতি পাপড়ির মধ্যে মসলামিশ্রিত সেদ্ধ আলুর পুর ভরে তেঁতুলজল সহযোগে পরিবেশিত হয় এই ফুচকা। বিভিন্ন অঞ্চলে নানাবিধ নামধারণের পাশাপাশি ফুচকা পরিবেশনের রীতিটিও বিভিন্নতা লাভ করেছে। কোন কোন অঞ্চলে তেঁতুলজলের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় পুদিনামিশ্রিত জল। আবার পশ্চিমবঙ্গে ফুচকার পুর হিসেবে ব্যবহৃত আলুতে পেঁয়াজের প্রচলন না থাকলেও ভারতের ওড়িশা প্রদেশে পেঁয়াজ ফুচকার একটি অন্যতম উপকরণ। এছাড়া সমগ্র দেশেই দই-ফুচকা অর্থাৎ টকদই সহযোগে পরিবেশিত ফুচকা জনপ্রিয়তা প্রবল।

ফুচকার ইংরেজি শব্দ কী?

সব শব্দের বিশেষ করে বিশেষ্য পদের ইংরেজি করতেই হবে এমন কোন কথা নাই। ফুচকা  ইংরেজিভাষী ব্যক্তির পক্ষে উচ্চারণ করা সহজ, কাজেই আগডুম-বাগডুম ইংরেজি পরিভাষা বানানো সমর্থনযোগ্য না। ইংরেজি ভাষা ভাষী দেশে যা নাই, তার ইংরেজি শব্দ ও নাই। তাই ফুচকাকে ফুচকা এবং জিলাপি কে জিলাপি ই বলা হয়। অথবা আপনি যুক্তিসংগত ইংরেজি নাম দিতে পারেন। 

ফুচকা বানানোর উপকরণ

  • ময়দা ১/৪ কাপ
  • সুজি ১ কাপ
  • তেল ও পানি পরিমাণ মতো
  • তাল মাখনা ১ টেবিল চামচ
  • লবণ আধা চা-চামচ।
  • ফুচকার পুর তৈরির জন্য লাগবে- 
  • সিদ্ধ ছোলা/মটর
  • সিদ্ধ আলু
  • সিদ্ধ ডিম
  • পেঁয়াজ কুচি
  • ধনেপাতা কুচি
  • কাচামরিচ কুচি
  • লবণ
  • বিট লবণ
  • চাট মসলা
  • শুকনা মরিচ
  • জিরা গুঁড়া 

ফুচকা বানানোর পদ্ধতি: ফুচকা তৈরির উপকরণগুলো ভালো করে মিশিয়ে নিন। বেশি শক্ত বা নরম হবে না।

ভেজা টিস্যু দিয়ে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এবার ডোটাকে কয়েক ভাগ করে মোটা রুটির মতো বেলে নিয়ে গোল আকারে কাটতে হবে।

এবার ডুবো তেলে বাদামি করে ভেজে নিন।

পুর তৈরির সব উপকরণ মিশিয়ে ফুচকার মাঝে ছিদ্র করে তাতে পুর ভরে তেঁতুলের টক দিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুচকার তেতুলের টক তৈরি করবেন কিভাবে?

১ কাপ পানিতে কিছু তেঁতুল ভিজিয়ে লিকুইড তৈরি করে নিন। এবার এতে স্বাদ মতো লবণ, বিট লবণ, চিনি, লেবুর খোসা কুচি, লেবুর রস, ভাজা জিড়া গুঁড়া ও মরিচ গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন।

ফুচকা তৈরির ব্যবসা করতে কত টাকা খরচ?

ফুচকা তৈরির ব্যবসা একটি অল্প পুঁজির ব্যবসার মধ্যে পড়ে। এই ব্যবসা ছোট করে শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। কারণ এই ২০০০ টাকা দিয়ে আপনি ফুচকা তৈরির প্রয়োজনীয় সকল কাঁচামাল কিনে ফুচকা তৈরি করে ব্যবসা করতে পারবেন। 

ছোট করে শুরু করুন শিখুন এবং আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসাকে বড় করার চেষ্টা করুন, এক ধাক্কায় যদি আপনি অনেক খরচ করে মেশিন কিনে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে হতেই পারে আপনি লাভের পরিবর্তে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

ফুচকা তৈরির ব্যবসা তে কি কি কাঁচামাল লাগে?

ফুচকা তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ফুচকা তৈরি করার জন্য বেশকিছু কাঁচামাল কিনতে হবে। সকল প্রকার কাঁচামাল কি নেই তবে আপনাকে ফুচকা তৈরি করে ব্যবসা করতে হবে। আর ফুচকা তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা নিচে শেয়ার করা হলো:

  • আটা
  • সুজি
  • তেল
  • তেতুল
  • আলু
  • ছোলা
  • মটর
  • পেঁয়াজ
  • বিভিন্ন প্রকারের ফুচকার মসলা
  • কাঁচা লঙ্কা
  • প্লাস্টিক প্লেট

ফুচকা তৈরীর কাঁচামাল কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ফুচকা তৈরির ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে সকল প্রকার কাঁচামাল স্বল্পমূল্যে কিনতে হবে। ফুচকা তৈরীর জন্য সমস্ত কাঁচামাল আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো মুদিখানা দোকান থেকে কিনতে পারেন। তবে অল্প মূল্যে আপনাকে যদি সকল কাঁচামাল কিনতে হয় তাহলে আপনার শহরের পাইকারি মুদিখানা দোকান থেকে সমস্ত কাঁচামাল কিনুন। 

ফুচকা তৈরীর মেশিন কোথায় কিনতে পাওয়া যায়?

ফুচকা তৈরীর ব্যবসা করতে গেলে ফুচকা তৈরীর প্রয়োজনীয় মেশিন গুলো আপনাকে খুবই অল্প মূল্যে কিনতে হবে। বর্তমানে ফুচকা তৈরি করার সকল মেশিন আপনি চাইলে অনলাইনে ইন্ডিয়ামার্ট অথবা অ্যামাজন থেকে কিনতে পারেন। তবে সবচেয়ে ভালো হয় সরাসরি আপনি যদি ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানি থেকে ফুচকা তৈরি করার মেশিন কিনতে পারেন। আপনার শহরের আপনি খুজলে দেখতে পাবেন অনেক বড় বড় মেশিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি রয়েছে, আপনি সেই কোম্পানিতে গিয়ে ফুচকা তৈরীর মেশিন কিনতে পারেন অথবা অর্ডার দিয়ে বানাতে পারেন।

ফুচকা - ফুচকার ইতিহাস, ফুচকার ইংরেজি শব্দ কি? । ফুচকার রেসিপি ২০২২

কিভাবে ফুচকা তৈরি করা হয়? How is Fuchka made?

ফুচকা তৈরি করার খুবই সহজ জিনিস আপনিও যদি একটু ভালো করে কোন ফুচকা ব্যবসায়ীর কাছে এক বেলা বোসের শিক্ষা নেন তাহলে আপনিও তৈরি করতে পারবেন সমস্ত ফুচকা। 

প্রথমে আপনি যে পরিমাণ ফুচকা তৈরি করবেন তার পরিমাণ মতো ময়দা ও সুজি একটা পাত্রে ঢেলে নিতে হবে।

এরপর ময়দা তে পরিমাণমতো জল দিয়ে ভালো করে মাখাতে হবে।

এরপর ময়দার একটি শক্ত মিশ্রণ তৈরি করতে হবে,

তারপর ময়দার ছোট ছোট লুচির আকারে কেটে নিয়ে বলতে হবে।

তারপর গোলাকৃতি নরম ময়দা গুলিকে তেলেতে ভাল করে ভেজে নিলেই যখন ফুলে উঠবে সেটাই ফুচকায় পরিণত হবে।

এরপর ফুচকা গুলিকে আরো মজা করার জন্য সামান্য রোদে ঘণ্টাখানেক রেখে দিতে হবে।

তবে মেশিনের সাহায্যে ফুচকা তৈরি করলে ঘন্টায় আপনি 6 হাজারের বেশি ফুচকা তৈরি করতে পারবেন। আর বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন 50-60 হাজার ফুচকা তৈরি অবশ্যই লাগে। এবং প্রতিটা বড় ব্যবসায়ী প্রতি মাসে অনেক টাকা ইনকাম করেন শুধুমাত্র ফুচকা তৈরি করে।

বাংলাদেশের বিখ্যাত ফুচকার দোকান কোথায়?

১। বনানীর বি ব্লকে বারকোড ক্যাফে

২। ফুচকাওয়ালী (বনানী এগারো নাম্বার রোডে বিভিন্ন ধরনের ফুচকা নিয়ে রেস্টুরেন্ট ফুচকাওয়ালীর অবস্থান।

৩। এনায়েত ফুচকা হাউস ( রাজধানীর শনিরআখড়ার এই দোকানটির অবস্থান) 

৪। শরীয়তপুর চটপটি ও ফুচকা (মিরপুর দুইয়ের মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় বালিকা শাখার পাশে শরীয়তপুর চটপটি ও ফুচকার দোকান) । 

৫। জুম্মন মামার ফুচকা (পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় তারা মসজিদের পাশে জুম্মন মামার ঐতিহ্যবাহী চটপটি ও ফুচকার দোকানের অবস্থান)।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url